Saturday, March 9, 2019

প্রাপ্ত শিক্ষা ত্যাজ্য

কোনো না কোনো ভাবে এই সমাজ থেকেই শিখেছি। ভুল শিখেছি। আমি এই সমাজ থেকেই শিখেছিঃ
১। মেয়েরা মিনমিন করে কথা বলে। সেভাবে কথা বলা ছেলেদের মানায় না। নম্রতা থেকে শুরু করে দাসত্ব পর্যন্ত সকল নরম স্বভাবের আদর্শ প্রতিফলক মেয়েরা।
২। “তুমি মেয়েদের মত করে কথা বলো” ধরণের মন্তব্যের মাধ্যমে একটা সমগ্র লিঙ্গকে পরোক্ষভাবে নিচে নামানোর বিরুদ্ধে জবাব হিসেবে
আমি নিজের আচরণ কে পালটানো সহজ মনে করেছি। নিজেকে “ছেলেদের মত পুরুষালি” বানানো কে দায়িত্ব মনে করেছি।

৩। কথার মাঝে বিনয় এর প্রতিফলনে নিজের অজান্তেই হাসিমুখে কথা বলতাম। “নারীর মত দূর্বলতা ভেবে” নিজের অজান্তেই আবার জোর করে হাসি চেপে, গলার ভেতর থেকে গাঢ় শব্দ করে কথা বলতে শিখেছি আমি। কারণ, পুরুষের ওই নম্রতা মানায় না।
৪। মেয়েদের পিরিওড এর মত সাধারণ বিষয় নিয়ে কৌতুক করে বন্ধুমহলে নিজের স্থান ঠিক রাখতে হাসতে শিখেছি। কৌতুক করতেও শিখেছি। কোনো না কোনো পাত্রের ঘাড়ে ঝুলতেই যার জন্ম, তাকে কৌতুকের পাত্র বানানোই যায়।
৫। পুরুষের থেকে আলাদা অংগের অধিকারী হওয়ার জন্য মেয়েদের প্রত্যেকটি চালচলন কে সেক্সুয়ালাইজ করাই যায়। তাদের অস্তিত্বই যেখানে পুরুষকে সুখী ও খুশী করানোর জন্য, তাই সেখানে কোনো কিছু আবরণে না থাকলেই আমার সুখ এবং পুরুষজাতির সুখ। আর হ্যাঁ, সেগুলো নিয়েও কৌতুক করা বেশ সাধারণ এবং সেক্সিস্ট জোক ক্র্যাক করা বেশ মজার।
৬। ভবিষ্যতে “বউ এর মত মেয়ে” পাবো বলে একটা সুন্দর স্বর্গের ধীর-স্থির অপ্সরী এর প্রত্যাশা করাটা বেশ স্বাভাবিক। পুরুষের স্বপ্নে তো সেই মৃদু ছন্দে হাঁটা মেয়কেই দেখা যায়; যে হাঁটবে শুধু তারই সামনে। অন্য কারও চোখের সুখের বস্তু হতে সে রাজি না।
৭। মেয়েদের জন্য চাকরি করা একটা সৌখিন স্বপ্ন। স্বামী কে সুখ দেয়ার জন্য এবং সন্তান পালন এর জন্য ঘুরে ফিরে মেয়েকেই চাকরি ছাড়তে হবে, কারণ মেয়ে মানুষ ঘরে থাকার জিনিস; বাইরে না।
৮। একটা মেয়ের একদম ব্যক্তিগত পর্যায়ে মানুষ হিসেবে খুব বেশি মূল্য নেই। তার মূল্য তখনই আসবে যখন তার পাশে থাকবে তার স্বামী এবং তাকে পূর্ণতা দান করবে তার সন্তান। শুধু একটা মানুষ হিসেবে নারী মূল্যহীন (আর সমাজ জোর করে সেটাকে ‘অমূল্য’ বলতে শেখায়)
৯। নায়িকা কে সবসময় নায়ক বাঁচাতে আসলেও একটা ভঙ্গুর সংসার এর খাম্বা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নারীরই দায়িত্ব। কারণ “ডিভোর্স কখনই সমাধান না” কিন্তু একটা বিশ্রী সম্পর্কে আজীবন লেগে থাকা অবশ্যই সমাধান না হলেও মহাস্বর্গীয় বীরত্ব।
১০। নারী-পুরুষ কখনই এক না। কারণ নারীর জীবনে প্রেগনেন্সি আসতে পারে, পিরিওড আসেই; তাই নারীরা দূর্বল। হয়তবা এই দুটো ঘটনার কারণে তাদের বুদ্ধিমত্তা কোনোভাবে কমে যায় এবং সারা জীবনের মত শারিরীক শক্তিও পুরুষের চেয়ে নিচে নেমে যায়, তাই পুরুষ ছাড়া তার জীবন অচল।
উপর্যুক্ত সকল প্রাপ্ত শিক্ষা ত্যাজ্য করলাম। যদি এগুলোর একটাকেও কারও কাছে সুশিক্ষা মনে হয় এবং যদি একবারও ভেবে থাকেন যে “নিজের মা/বোন/বউ এইরকম হইলে তখন ঠ্যালা বুঝবা”, তাদের বলে রাখি; আপনি সমান আমি না। 
ধন্যবাদ।

No comments:

Post a Comment