Sunday, November 11, 2018

অজ্ঞতার অসুখ

বর্তমানের অবস্থাটা এমন হয়ে আছে
ভবিষ্যৎকে দূরে লাগে, অতীতকে খুব কাছে।
অতীত থেকেই আনব তুলে দ্বিধার কিছু কথা
যোগ্যতাটা ভিত্তি নহে, ভিত্তি অভিজ্ঞতা।

প্রথম যেদিন হাতে পেলাম বর্ণমালার বইটা
চিনে নিলাম জীবন চাঁদে পৌঁছে যাবার মইটা।
নতুন নতুন শিখতে থাকি বাক্য, শব্দ, বর্ণ,
মাথাটা ঠিক বন্ধ ছিল, খোলা চক্ষু-কর্ণ।
মনযোগেই শুনতাম গুরুজনের বাণীগুলো,
বাণীগুলোই আদেশ দিত, "মাথা! তুমি খোলো!"
খোলা মাথাও শুনতে পেত, "হতে হবে বড়!" 
"বড় হওয়ার জন্য এবার লেখো এবং পড়ো!"
"কখন কীসে কী সব হয়, জানবে পড়লে লিখলে,
দেশ ও সমাজ এগোবে দেখো, তুমি জানলে শিখলে।"
"ভালো মানুষ হতে হবে, আশায় রাখো প্রীতি
মরার পরেও থাকবে বেঁচে, বাসস্থান টা স্মৃতি।"
"স্মৃতির মাঝে সমাদরে মানুষ রাখবে তোমায়,
সেটা কিন্তু খুব সহজে ধ্বংস হয়না বোমায়।"
বাণীগুলো বন্ধ মাথার অন্যতম চাবি,
বস্তুগত প্রমাণ এখন ঢাবি কিংবা জাবি।
অতীত থেকে বর্তমানে এলাম একটি লাফে,
অংকের সিধা উত্তর এটা, হিসাব থাকুক রাফে।
কপালেতে না জুটলে ভাল কোনো জায়গা
শিক্ষিত সেই "টাইটেল"টা ঠিক পালায়েই যায় গা!
ভাল সাবজেক্ট ডিগ্রি নিয়ে গড়ো ক্যারিয়ার
নইলে দেইখো, জগত স্বর্গের সামনেতে ব্যারিয়ার।
"শেখাটাই মূল"- অতীত কালের স্বর্গীয় এক সত্য।
এখন শুনি, "ভাত পাবে না, দিয়ে এসব তত্ত্ব!"
রেজাল্ট-চাকরী সমাজ চেনে। শিক্ষা সে কি চেনে?
ভাত পেতেই কলেজ যাচ্ছি, যাইনা তো কিচেনে।

তারিখঃ ২৪শে অক্টোবর, ২০১৭ 

No comments:

Post a Comment